রক্তদান একটি মহৎ কাজ হলেও রক্ত দেওয়ার পূর্বে দাতা এবং গ্রহীতা। উভয়ের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই রক্ত দিতে চান। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে বুঝতে পারেন না যে তারা রক্তদানের জন্য যোগ্য কি না। আজকের ব্লগে আমরা খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করবো রক্তদানের নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা শর্তাবলী নিয়ে।
কারা রক্ত দিতে পারবেন? (রক্তদানের যোগ্যতা)
যদি নিচের শর্তগুলো আপনার সাথে মিলে যায়। তবে আপনি সানন্দে রক্তদান করতে পারবেন।
- বয়সঃ আপনার বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে (কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে ৬৫ বছর পর্যন্ত)।
- ওজনঃ পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক ওজন সর্বনিম্ন ৪৫ কেজি (বা ১০০ পাউন্ড) হওয়া আবশ্যক।
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রাঃ রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ রক্তদাতার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের ক্ষেত্রে এটি অন্তত ১২.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং নারীর ক্ষেত্রে অন্তত ১২.০ গ্রাম/ডেসিলিটার থাকা প্রয়োজন।
- রক্তদানের বিরতিঃ সর্বশেষ রক্তদানের পর পুরুষদের ক্ষেত্রে অন্তত ৩ মাস এবং নারীদের ক্ষেত্রে অন্তত ৪ মাস সময় পার হতে হবে।
- সাধারণ স্বাস্থ্যঃ রক্তদানের সময় রক্তদাতাকে সর্দি, কাশি, জ্বর বা অন্য কোনো সাময়িক সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।
- রক্তচাপ ও পালসঃ রক্তচাপ (Blood Pressure) স্বাভাবিক থাকতে হবে (সাধারণত সিস্টোলিক ১০০-১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক ৬০-৯০ এর মধ্যে)।
কারা রক্ত দিতে পারবেন না? (অযোগ্যতা)
নিচের পরিস্থিতি বা রোগব্যাধি থাকলে রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
১. স্থায়ীভাবে যারা রক্ত দিতে পারবেন না।
- হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস বা এইচআইভি (HIV) পজিটিভ ব্যক্তি।
- হৃদরোগ (Heart Disease), জটিল কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিস যদি ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল হয়।
- ক্যান্সারের রোগী বা অতীতে ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি।
- মৃগী রোগ (Epilepsy) বা হাঁপানি/অ্যাজমা (যদি ওষুধ প্রতিনিয়ত খেতে হয়)।
২. সাময়িকভাবে যারা কিছুদিন রক্ত দিতে পারবেন না।
- গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মাঃ গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মদানের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রক্ত দেওয়া যাবে না।
- মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালীনঃ এ সময় অনেক নারী শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন। তাই পিরিয়ড শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো।
- মেজর অপারেশন বা ট্যাটুঃ সাম্প্রতিক কোনো বড় অপারেশন হয়ে থাকলে কিংবা শরীরে ট্যাটু বা পিয়ার্সিং করালে পরবর্তী ৬ থেকে ১২ মাস রক্ত দেওয়া নিষেধ।
- অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রতিষেধক টিকাঃ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শেষ হওয়ার অন্তত ৭ দিন এবং নির্দিষ্ট কিছু ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়।
শেষ কথা
রক্তদান সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া। সঠিক তথ্য জানা থাকলে কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই আপনি রক্তদান করে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসতে পারবেন। আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে একজন মুমূর্ষু রোগীকে নতুন জীবন উপহার দিতে।








