Home ব্লগ কেন নিয়মিত রক্ত দেওয়া উচিত?

কেন নিয়মিত রক্ত দেওয়া উচিত?

রক্তদান একটি মহৎ ও মানবিক কাজ। অনেকেই মনে করেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে বা নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। নিয়ম মেনে রক্ত দিলে তা শরীরের কোনো ক্ষতি তো করেই না। বরং রক্তদাতার শারীরিক ও মানসিকভাবে নানা উপকার বয়ে আনে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো নিয়মিত রক্তদানের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং রক্ত দেওয়ার আগে ও পরের কিছু জরুরি নিয়মাবলী।

রক্তদানের প্রধান শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
নিয়মিত রক্তদানে রক্তে অতিরিক্ত আয়রনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হলে তা ধমনী বা রক্তনালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে রক্ত দিলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়।

নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে
এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর শরীর দ্রুত সেই রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে শুরু করে। অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) উদ্দীপিত হয়ে নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে, যার ফলে শরীরে নতুন ও কর্মক্ষম রক্তের সঞ্চার হয়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রক্তদান করলে শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা যকৃৎ (Liver), ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রক্তদানের পূর্বে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তচাপ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (HIV) ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক স্ক্রিনিং হয়ে যায়।

মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি
আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত যখন মুমূর্ষু কোনো রোগীর জীবন বাঁচায়, তখন যে আত্মতৃপ্তি ও মানসিক আনন্দ পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না।


 

রক্তদানের আগে ও পরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

রক্ত দেওয়ার আগে

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করুন।
  • রক্ত দেওয়ার আগের রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • খালি পেটে না গিয়ে হালকা পুষ্টিকর খাবার খেয়ে যান।

রক্ত দেওয়ার পরে

  • রক্তদানের পর ১৫-২০ মিনিট কিছুক্ষণ বিশ্রামে থাকুন।
  • ওই দিন প্রচুর পরিমাণে পানি ও স্যালাইন বা ফলের রস পান করুন।
  • কয়েক ঘণ্টার জন্য ভারী কাজ বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।

শেষ কথা
১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ মানুষ, যাদের ওজন ন্যূনতম ৪৫ কেজি (বা ১০০ পাউন্ড), তারা প্রতি ৩-৪ মাস পর পর নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। আপনার একটু সচেতনতা ও সদিচ্ছাই পারে ঝরে পড়া কোনো প্রাণকে আবার বাঁচিয়ে তুলতে।


রক্তদাতা হিসেবে যুক্ত হতে আজই নিবন্ধন করুন।


 

Previous articleমানুষের কেন রক্তের প্রয়োজন হয়?
Next articleজেনে নিন রক্তদানের সঠিক নির্দেশিকা
রেসিপি (www.Tayyib.org)
“রেসিপি” — তায়্যিব-এর একটি ভালোবাসার উদ্যোগ। খাবারের প্রতিটি গল্পই শুরু হয় মায়ের হাতের স্নেহমাখা স্বাদ থেকে, আর সেই স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে ঘর থেকে ঘরে, দেশ থেকে বিদেশে, মানুষ থেকে মানুষের হৃদয়ে। আমাদের "রেসিপি" ওয়েবসাইট আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও সমৃদ্ধ রেসিপি প্ল্যাটফর্ম। দেশি ও প্রবাসি বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পী, গৃহিণী, ফুড ব্লগার ও পেশাদার শেফ—সবাই মিলে এখানে তৈরি করছেন এক বিশাল রান্নার জগৎ। শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের রেসিপির স্বাদ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, কাতার, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের রান্নাঘরে। যেখানেই বাঙালির রান্নাঘর — সেখানেই “রেসিপি”-এর উপস্থিতি। রান্না শুধু খাবার নয়—এটা স্মৃতি, ঐতিহ্য, এবং ভালোবাসার ভাষা। আর আমরা সেই ভাষা নিইয়ে যাচ্ছি বিশ্বের প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে। “রেসিপি” — আপনার রান্নার সাথী, আপনার স্বাদের পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here